ইসলামি মাসায়েল

অপ্রাপ্তবয়স্ক অবস্থায় মৃত্যুবরণকারী মুসলিম সন্তানদের জান্নাতে পাওয়া যাবে কি? জান্নাতে তাদের বয়স কত হবে?

প্রশ্ন নং ৯৫:

আমার একটি শিশু সন্তান মৃত্যুবরণ করেছে। আমি কি জান্নাতে তাকে ফিরে পাব? জান্নাতে কি সে শিশুই থাকবে, নাকি তার বয়স বৃদ্ধি পাবে?

উত্তর

বিসমিল্লাহির রহমানির রহিম
অপ্রাপ্তবয়স্ক অবস্থায় মৃত্যুবরণকারী মুসলিম সন্তানদের ব্যাপারে জান্নাতের সুসংবাদ রয়েছে। তারা জান্নাতি হবে এবং আল্লাহর রহমতে তাদের পিতা-মাতার জন্যও সুপারিশের কারণ হবে। হযরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেছেন—

صِغَارُهُمْ دَعَامِيصُ الْجَنَّةِ، يَتَلَقَّى أَحَدُهُمْ أَبَاهُ ـ أَوْ قَالَ أَبَوَيْهِ ـ فَيَأْخُذُ بِثَوْبِهِ ـ أَوْ قَالَ بِيَدِهِ ـ كَمَا آخُذُ أَنَا بِصَنِفَةِ ثَوْبِكَ هَذَا، فَلَا يَتَنَاهَى ـ أَوْ قَالَ فَلَا يَنْتَهِي ـ حَتَّى يُدْخِلَهُ اللَّهُ وَأَبَاهُ الْجَنَّةَ.

অর্থ: “তাদের ছোট শিশুরা জান্নাতে বিচরণ করবে। তাদের কেউ তার পিতার সঙ্গে—অথবা বর্ণনাকারীর ভাষায়, পিতা-মাতা উভয়ের সঙ্গে—সাক্ষাৎ করবে। অতঃপর সে তাঁর কাপড়ের আঁচল—অথবা বর্ণনাকারীর ভাষায়, হাত—ধরে রাখবে, যেভাবে আমি তোমার এই কাপড়ের আঁচল ধরে আছি। এরপর সে বিরত হবে না—অথবা বর্ণনাকারীর ভাষায়, থামবে না—যতক্ষণ না আল্লাহ তাকে ও তার পিতাকে জান্নাতে প্রবেশ করাবেন।”
—সহিহ মুসলিম, হাদিস নং ২৬৩৫।
রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের পুত্র ইবরাহীম (রা.) দুগ্ধপোষ্য অবস্থায় ইন্তেকাল করলে তিনি তাঁর ব্যাপারে বলেন—

إِنَّ لَهُ مُرْضِعًا فِي الْجَنَّةِ.

অর্থ: “জান্নাতে তার জন্য দুধ পান করানোর ব্যবস্থা রয়েছে।”
—সহিহ বুখারি, হাদিস নং ১৩৮২।
জান্নাতবাসীদের বয়স সম্পর্কে হাদিসে বর্ণিত হয়েছে যে, তাঁরা পূর্ণ যৌবন ও সৌন্দর্যের অধিকারী হবেন। হযরত মুআয ইবনে জাবাল (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেছেন—

يَدْخُلُ أَهْلُ الْجَنَّةِ الْجَنَّةَ جُرْدًا مُرْدًا مُكَحَّلِينَ أَبْنَاءَ ثَلَاثِينَ أَوْ ثَلَاثٍ وَثَلَاثِينَ سَنَةً.

অর্থ: “জান্নাতবাসীরা জান্নাতে প্রবেশ করবে লোমহীন দেহে, দাড়ি-গোঁফহীন যুবকসুলভ অবস্থায়, সুরমাযুক্ত চোখে এবং ত্রিশ অথবা তেত্রিশ বছর বয়সে।”
—জামে তিরমিযী, হাদিস নং ২৫৪৫।
হযরত মিকদাদ ইবনুল আসওয়াদ (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেছেন—

مَا مِنْ أَحَدٍ يَمُوتُ مَنْفُوسًا، وَلَا شَيْخًا يُوَفَّى، وَإِنَّمَا النَّاسُ بَيْنَ ذَلِكَ، إِلَّا بُعِثَ ابْنَ ثَلَاثٍ وَثَلَاثِينَ سَنَةً، فَإِنْ كَانَ مِنْ أَهْلِ الْجَنَّةِ، كَانَ عَلَى مَسْلَاخِ آدَمَ، وَصُورَةِ يُوسُفَ، وَقَلْبِ أَيُّوبَ.

অর্থ: “এমন কেউ নেই, যে ভূমিষ্ঠ হওয়ার পরপরই মারা গেছে, কিংবা বার্ধক্যে উপনীত হয়ে মারা গেছে, অথবা এ দুই অবস্থার মাঝামাঝি কোনো বয়সে মারা গেছে; কিয়ামতের দিন তাকে তেত্রিশ বছর বয়সে পুনরুত্থিত করা হবে না। সে জান্নাতিদের অন্তর্ভুক্ত হলে আদম (আ.)-এর দৈহিক গড়ন, ইউসুফ (আ.)-এর সৌন্দর্য এবং আইয়ুব (আ.)-এর অন্তরের অধিকারী হবে।”
—মুসনাদে আহমাদ, হাদিস নং ২৩৮২১; আল-বাসু ওয়ান নুশুর, ইমাম বায়হাকি, হাদিস নং ৩৯৪।
মুমিনদের অপ্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জান্নাতে লালন-পালন সম্পর্কে ইমাম ইবনুল কাইয়্যিম (রহ.) লিখেছেন—

وَقَدْ رُوِيَ حَمَّادُ بْنُ سَلَمَةَ … عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: «أَوْلَادُ الْمُؤْمِنِينَ فِي جَبَلٍ فِي الْجَنَّةِ يَكْفُلُهُمْ إِبْرَاهِيمُ وَسَارَةُ حَتَّى يَرُدَّهُمْ إِلَى آبَائِهِمْ يَوْمَ الْقِيَامَةِ» … فَيَكُونُ مَعَ كَفَالَةِ إِبْرَاهِيمَ وَسَارَةَ لَهُمْ فِي الْجَنَّةِ اسْتِكْمَالُ خَلْقِهِمْ وَنُشُوؤُهُمْ إِلَى حَدِّ الْبُلُوغِ.

অর্থ: “হযরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, মুমিনদের সন্তানরা জান্নাতের একটি পাহাড়ে থাকবে। ইবরাহীম ও সারাহ (আ.) তাদের লালন-পালন করবেন, কিয়ামতের দিন তাদের পিতা-মাতার কাছে ফিরিয়ে দেওয়া পর্যন্ত। … অতএব, জান্নাতে ইবরাহীম ও সারাহ (আ.)-এর তত্ত্বাবধানে তাদের দৈহিক গঠন পূর্ণতা লাভ করবে এবং তারা বয়ঃপ্রাপ্তি পর্যন্ত বেড়ে উঠবে।”
—ইবনুল কাইয়্যিম, হাদিউল আরওয়াহ ইলা বিলাদিল আফরাহ, পৃ. ২৭৯।
সুতরাং, অপ্রাপ্তবয়স্ক অবস্থায় মৃত্যুবরণকারী মুসলিম সন্তানদের জন্য জান্নাতের সুসংবাদ রয়েছে। জান্নাতবাসীদের বয়স ও অবস্থা সম্পর্কে বর্ণিত হাদিস বোঝা যায়, জান্নাতে শিশুদের বেড়ে ওঠা ও পূর্ণতা লাভের বিষয়টি বর্ণিত হয়েছে। জান্নাতবাসীরা ত্রিশ বা তেত্রিশ বছর বয়সের পূর্ণ যৌবন ও সৌন্দর্যের অধিকারী হবেন। তাই আল্লাহর রহমতে আপনি জান্নাতে আপনার সন্তানকে ফিরে পাওয়ার আশা রাখতে পারেন।

আল্লাহু আলাম

উত্তরদাতা
মুফতী আবদুল্লাহ
কুরআন ও তাফসির, ফিকহ ও ফতোয়া
ঈমান ও আকাইদ
পরিসংখ্যান
৯৫
প্রশ্ন নম্বর
১৫
দেখেছেন
২২ অক্টোবর, ২০২৬
প্রকাশিত
? প্রশ্ন করুন