প্রশ্ন নং ১১৪: বর্তমানে ব্যক্তিগত ও প্রাতিষ্ঠানিক যোগাযোগে WhatsApp, Messenger, ই-মেইলসহ বিভিন্ন অনলাইন মাধ্যম ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হচ্ছে। এসব মাধ্যমে যোগাযোগের শুরুতে অনেকে লিখিতভাবে "আসসালামু আলাইকুম" লিখে মেসেজ পাঠান অথবা ভয়েস মেসেজের মাধ্যমে সালাম দেন। সালাম পাওয়ার পর কেউ উত্তর দেন, কেউ আবার উত্তর না দিয়েই মূল প্রসঙ্গে চলে যান। এ প্রেক্ষাপটে শরিয়তের দৃষ্টিতে নিচের বিষয়গুলোর হুকুম জানতে চাই: ১. ব্যক্তিগত মেসেজে কেউ সালাম দিলে তা পড়া বা শোনার পর উত্তর দেওয়া কি ওয়াজিব? ২. গ্রুপ চ্যাটে কেউ সালাম দিলে প্রত্যেক সদস্যের জন্য কি আলাদাভাবে উত্তর দেওয়া আবশ্যক, নাকি একজন উত্তর দিলেই সকলের পক্ষ থেকে আদায় হয়ে যাবে? ৩. সালামের উত্তর কি একই মাধ্যমে (লিখিত বা ভয়েসে) দেওয়া জরুরি এবং তা সালামদাতার কাছে পৌঁছানো কি শর্ত, নাকি শুধু মুখে উচ্চারণ করলেই যথেষ্ট?
১. লিখিত বা ভয়েস মেসেজ — যেকোনো মাধ্যমে সালাম পাঠানো হোক না কেন, তা পড়া বা শোনার পর উত্তর দেওয়া ওয়াজিব।
আল্লাহ তায়ালা ইরশাদ করেন —
وَإِذَا حُيِّيتُمْ بِتَحِيَّةٍ فَحَيُّوا بِأَحْسَنَ مِنْهَا أَوْ رُدُّوهَا
“যখন কেউ তোমাদেরকে সালাম করে, তখন তোমরা তদপেক্ষাও উত্তমরূপে সালামের জবাব দাও কিংবা অন্তত সেই শব্দেই জবাব দাও।” (সূরা নিসা: ৮৬)
আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ ﷺ ইরশাদ করেছেন —
حَقُّ المُسلمِ على المُسلمِ خَمسٌ: رَدُّ السَّلامِ، وعيادةُ المَريضِ، واتِّباعُ الجَنائِزِ، وإجابةُ الدَّعوةِ، وتَشميتُ العاطِسِ
“একজন মুসলিমের উপর অপর মুসলিমের পাঁচটি হক রয়েছে: সালামের জবাব দেওয়া, অসুস্থ ব্যক্তিকে দেখতে যাওয়া, জানাযায় অংশগ্রহণ করা, দাওয়াত গ্রহণ করা এবং হাঁচির জবাব দেওয়া।” (বুখারী: ১২৪০)
বিখ্যাত ফকীহ ইবনে আবিদীন শামী রহ. বলেন —
ويجب رد جواب كتاب التحية كرد السلام… إذا كتب لك رجل بالسلام في كتاب ووصل إليك وجب عليك الرد باللفظ أو بالمراسلة
“কেউ যদি লিখিতভাবে সালাম পাঠায় এবং তা আপনার কাছে পৌঁছে, তাহলে মৌখিকভাবে অথবা লিখিতভাবে তার সালামের উত্তর দেওয়া ওয়াজিব।” (রদ্দুল মুহতার: ৯/৫৯৪)
২. গ্রুপ চ্যাটে বা একাধিক ব্যক্তিকে সম্বোধন করে কেউ সালাম দিলে সদস্যদের যেকোনো একজন উত্তর দিলে সকলের পক্ষ থেকে আদায় হয়ে যাবে।
আলী রা. রাসূলুল্লাহ ﷺ থেকে বর্ণনা করেন —
يجزئ عن الجماعة إذا مروا أن يسلم أحدهم ويجزئ عن الجلوس أن يرد أحدهم
“একদল লোক একসাথে গমন করার সময় তাদের মধ্য থেকে একজন সালাম দিলে সকলের পক্ষ থেকে আদায় হবে। অনুরূপ একত্রে উপবিষ্ট ব্যক্তিদের পক্ষ থেকে একজন সালামের উত্তর দিলে সকলের দায়িত্ব পালিত হবে।” (সুনানে আবু দাউদ: ৫২১০)
৩. লিখিত বা ভয়েসে উত্তর না দিয়ে শুধু মুখে উচ্চারণ করলেও ওয়াজিব আদায় হয়ে যাবে। তবে সালামদাতার কাছে উত্তর পৌঁছে দেওয়া উত্তম। (রদ্দুল মুহতার: ৯/৫৯৪)
فقط والله أعلم