প্রশ্ন নং ১২৪: তিন মাস পূর্ণ হওয়ার আগেই গর্ভপাত হয়ে গেলে ওই নারীর রক্তের হুকুম কী হবে? এক্ষেত্রে কি তা নেফাস হিসেবে গণ্য হবে?
গর্ভপাতের পর রক্তপাত হলে তা নেফাস হিসেবে গণ্য হবে কি না — এটি নির্ভর করবে গর্ভপাত হওয়া ভ্রূণের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের গঠন প্রকাশ পেয়েছে কি না তার উপর।
যদি ভ্রূণের কোনো অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের গঠন — যেমন হাত, পা, আঙুল, নখ ইত্যাদি — প্রকাশ পেয়ে যায়, তাহলে ওই নারীর উপর নেফাসের বিধান প্রযোজ্য হবে এবং গর্ভপাতের পর দেখা দেওয়া রক্ত নেফাসের রক্ত হিসেবে গণ্য হবে।
আর যদি ভ্রূণের কোনো অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের গঠন প্রকাশ না পায়, তাহলে নেফাসের হুকুম প্রযোজ্য হবে না। এ অবস্থায় গর্ভপাতের পর দেখা দেওয়া রক্ত নেফাস হিসেবে গণ্য হবে না; বরং অন্যান্য শর্তের ভিত্তিতে তা হায়েজ অথবা ইস্তিহাযা হিসেবে বিবেচিত হবে।
ফকিহগণ ভ্রূণের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের গঠন প্রকাশ পাওয়ার সময়সীমা ১২০ দিন (চার মাস) উল্লেখ করেছেন। এর ভিত্তি হলো রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর হাদিস —
إِنَّ أَحَدَكُمْ يُجْمَعُ خَلْقُهُ فِي بَطْنِ أُمِّهِ أَرْبَعِينَ يَوْمًا، ثُمَّ يَكُونُ عَلَقَةً مِثْلَ ذَلِكَ، ثُمَّ يَكُونُ مُضْغَةً مِثْلَ ذَلِكَ، ثُمَّ يَبْعَثُ اللَّهُ مَلَكًا فَيُؤْمَرُ بِأَرْبَعِ كَلِمَاتٍ…
“তোমাদের প্রত্যেকের সৃষ্টি মায়ের পেটে চল্লিশ দিন নুতফা হিসেবে একত্রিত হয়। এরপর অনুরূপ সময় আলাকা (রক্তপিণ্ড) হিসেবে থাকে, এরপর অনুরূপ সময় মুদগা (গোশতপিণ্ড) হিসেবে থাকে। অতঃপর আল্লাহ তাআলা একজন ফেরেশতা পাঠান এবং তাকে চারটি বিষয় লিখতে আদেশ করা হয় — তার আমল, রিযিক, মৃত্যু এবং সে সৌভাগ্যবান না দুর্ভাগ্যবান। এরপর তাতে রূহ ফুঁকে দেওয়া হয়।” (সহীহ বুখারী: ৩২০৮)
সুতরাং চার মাস পূর্ণ হওয়ার পর গর্ভপাত হলে এবং ভ্রূণের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের গঠন প্রকাশিত থাকলে পরবর্তী রক্ত নেফাস হিসেবে গণ্য হবে। আর চার মাস পূর্ণ হওয়ার আগে গর্ভপাত হলে এবং ভ্রূণের কোনো অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের গঠন প্রকাশ না পেলে পরবর্তী রক্ত নেফাস হিসেবে গণ্য হবে না।
এ অবস্থায় রক্তের হুকুম হলো — রক্ত কমপক্ষে তিন দিন স্থায়ী হলে এবং এর আগে পূর্ণ এক তুহর (অর্থাৎ কমপক্ষে ১৫ দিন পবিত্রতা) অতিবাহিত হয়ে থাকলে তা হায়েজ হিসেবে গণ্য হবে। আর রক্ত তিন দিনের কম হলে অথবা এর আগে ১৫ দিন পূর্ণ পবিত্রতা অতিবাহিত না হয়ে থাকলে তা ইস্তিহাযা হিসেবে গণ্য হবে।
ফাতাওয়া শামীতে এসেছে —
“(ظهر بعض خلقه كيد أو رجل) أو أصبع أو ظفر أو شعر، ولا يستبين خلقه إلا بعد مائة وعشرين يوماً (ولد) حكماً (فتصير) المرأة (به نفساء والأمة أم ولد ويحنث به) في تعليقه وتنقضي به العدة، فإن لم يظهر له شيء فليس بشيء، والمرئي حيض إن دام ثلاثاً وتقدمه طهر تام وإلا استحاضة.”
“ভ্রূণের কোনো অঙ্গ — যেমন হাত, পা, আঙুল, নখ বা চুল — প্রকাশ পেলে এবং সাধারণত ১২০ দিন (চার মাস) পূর্ণ হওয়ার পর এর আকৃতি স্পষ্ট হয়, তাহলে শরয়ি হুকুমের দৃষ্টিতে তাকে সন্তান হিসেবে গণ্য করা হবে। এর ফলে নারী নেফাসওয়ালী হবেন এবং এর মাধ্যমে ইদ্দতও শেষ হবে। আর যদি ভ্রূণের কোনো অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের গঠন প্রকাশ না পায়, তাহলে এর কোনো হুকুম নেই। এ অবস্থায় রক্ত তিন দিন স্থায়ী হলে এবং এর আগে পূর্ণ তুহর থাকলে তা হায়েজ হিসেবে গণ্য হবে; অন্যথায় ইস্তিহাযা হিসেবে গণ্য হবে।”
(ফাতাওয়া শামী, খণ্ড ১, পৃষ্ঠা ৩০২)
আরও দ্রষ্টব্য:
ফাতাওয়ায়ে লাজনাতুদ দায়েমা-২১/৪৩৬
আল মাওসুআতুল ফিকহিয়্যাহ আল কুয়েতিয়্যাহ-২/৬৩
ফাতওয়া নম্বর: ১৪৪০০৪২০১২৬০
দারুল ইফতা: জামিয়া উলূমে ইসলামিয়া আল্লামা মুহাম্মদ ইউসুফ বান্নূরী টাউন
والله أعلم بالصواب