প্রশ্ন নং ১৩৩: বন্দুক দিয়ে গুলি করে যদি প্রাণী শিকার করা হয়, সেই প্রাণী খাওয়া কি হালাল হবে?
বন্দুকের গুলিতেই যদি প্রাণী মারা যায় এবং তাকে জবাই করার সুযোগ না পাওয়া যায়, তাহলে তা হালাল হবে না। কেননা গুলি বারুদের শক্তিতে প্রাণীর ওপর প্রভাব ফেলে। তাই এর দ্বারা নিহত প্রাণী ‘মাওকুযাহ’ তথা আঘাতের কারণে নিহত প্রাণীর অন্তর্ভুক্ত হবে। আর আঘাতের কারণে নিহত প্রাণী খাওয়া হালাল নয়। আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেছেন,
حُرِّمَتۡ عَلَیۡكُمُ ٱلۡمَیۡتَةُ وَٱلدَّمُ وَلَحۡمُ ٱلۡخِنزِیرِ وَمَاۤ أُهِلَّ لِغَیۡرِ ٱللَّهِ بِهِۦ وَٱلۡمُنۡخَنِقَةُ وَٱلۡمَوۡقُوذَةُ وَٱلۡمُتَرَدِّیَةُ وَٱلنَّطِیحَةُ وَمَاۤ أَكَلَ ٱلسَّبُعُ إِلَّا مَا ذَكَّیۡتُمۡ
“তোমাদের জন্য হারাম করা হয়েছে মৃত প্রাণী, রক্ত, শূকরের গোশত, যে প্রাণীর ওপর আল্লাহ ছাড়া অন্যের নাম উচ্চারণ করা হয়েছে, শ্বাসরোধে মৃত প্রাণী, আঘাতে নিহত প্রাণী, ওপর থেকে পড়ে মৃত প্রাণী, শিংয়ের আঘাতে মৃত প্রাণী এবং হিংস্র প্রাণী যেটির কিছু অংশ খেয়ে ফেলেছে—তবে যেগুলোকে তোমরা (মৃত্যুর আগে) জবেহ করতে পেরেছ, সেগুলো ব্যতিক্রম।”
(সূরা আল-মায়িদা, আয়াত : ৩)
তবে, যদি ধারালো তীর বা অন্য কোনো অস্ত্র ‘বিসমিল্লাহ’ পড়ে নিক্ষেপ করা হয় এবং তা প্রাণীকে জখম করে এবং রক্ত প্রবাহিত হয়, অতঃপর জবেহ করার আগেই প্রাণীটি মারা যায়, তবে তা খাওয়া হালাল। (ইমদাদুল ফাতাওয়া ৩/৬১৯)
এ বিষয়ে তাকমিলা ফাতহুল মুলহিমে রয়েছে—
وأما الحنفية فالجمهور منهم في ديارنا على عدم حل المصيد بالرصاص ما لم يُدرك حيا فيذبح بطريق مشروع، وحجتهم ما مر عن ابن عابدين من أن الرمي بالرصاص رض ووقذ، وليس جرحًا. وما ذكره الرافعي من أنه إن وقع الشك ولا يدري مات بالجرح أو الثقل كان حرامًا.
“হানাফি আলেমদের অধিকাংশের মত হলো, গুলির মাধ্যমে শিকার করা প্রাণীকে জীবিত অবস্থায় পাওয়া গেলে শরিয়তসম্মত পদ্ধতিতে জবেহ না করা পর্যন্ত তা হালাল হবে না। কারণ, বন্দুকের গুলির আঘাত ‘রয’ ও ‘ওয়াকয’ তথা প্রচণ্ড আঘাতের মাধ্যমে মৃত্যু ঘটায়; এটি জখম করার মতো নয়। আর যদি সন্দেহ হয় যে প্রাণীটি জখমের কারণে মারা গেছে, নাকি আঘাতের চাপে মারা গেছে, তাহলেও তা হারাম হবে।”
(তাকমিলা ফাতহুল মুলহিম, কিতাবুস সাইদ ওয়াজ-জাবায়িহ, ৩/৪৯১, মাকতাবায়ে দারুল উলূম, করাচি)
দ্রষ্টব্য:
১. ইমদাদুল ফাতাওয়া, ৩/৬১৯।
২. তাকমিলা ফাতহুল মুলহিম, কিতাবুস সাইদ ওয়াজ-জাবায়িহ, ৩/৪৯১, মাকতাবায়ে দারুল উলূম, করাচি।
৩. তাকমিলা আল-বাহরুর রায়েক মা‘আল কানযুদ দাকায়েক, ৮/২২৯, কনুতে।
৪. তাবয়ীনুল হাকায়েক, কিতাবুস সাইদ, ৭/১২৯, দারুল কুতুবিল ইলমিয়্যাহ, বৈরুত।
৫. রদ্দুল মুহতার (শামী), কিতাবুস সাইদ, ৬/৪৭১, করাচি; ১০/৬০, জাকারিয়া।
والله أعلم بالصواب