ইসলামি মাসায়েল

তিলাওয়াত শুনতে শুনতে ঘুমিয়ে যাওয়া ও জানাবাত (গোসল ফরজ হওয়ার অবস্থা) অবস্থায় কুরআন তিলাওয়াত শোনার বিধান

প্রশ্ন নং ১২৮: আমি কুরআন মাজীদের তিলাওয়াত শুনতে খুব পছন্দ করি। বিশেষ করে কারী ইয়াসির দাউসারির তিলাওয়াত। তাই ভ্রমণের সময়, একা থাকা অবস্থায় কিংবা ঘুমানোর আগে নিয়মিত তিলাওয়াত শুনি। অনেক সময় শুনতে শুনতে ঘুমিয়ে পড়ি এবং ঘুম থেকে জাগার পর সঙ্গে সঙ্গে তা বন্ধ করে দিই। জানতে চাই, এভাবে তিলাওয়াত শুনতে শুনতে ঘুমিয়ে পড়লে এবং জাগার পর তিলাওয়াত বন্ধ করে দিলে কোনো গুনাহ হবে কি? আর জানাবাত অবস্থায় কুরআন মাজীদের তিলাওয়াত শোনা কি জায়েজ?

উত্তর
সারসংক্ষেপ
তিলাওয়াত শুনতে শুনতে অনিচ্ছাকৃতভাবে ঘুমিয়ে পড়লে এবং জাগার পর তা বন্ধ করে দিলে কোনো গুনাহ হবে না। আর জানাবাত অবস্থায় কুরআন মাজীদের তিলাওয়াত শোনা জায়েজ; তবে নিজে তিলাওয়াত করা গোসল না করা পর্যন্ত জায়েজ নয়।

কুরআন মাজীদের তিলাওয়াত শোনা সওয়াবের কাজ। তবে তিলাওয়াত শুনতে শুনতে তন্দ্রা বা ঘুমের ভাব চলে এলে তিলাওয়াত বন্ধ করে দেওয়া উচিত, যাতে কুরআন মাজীদের প্রতি অমনোযোগিতা প্রকাশ না পায়। তবে ঘুমানোর ইচ্ছা না থাকা সত্ত্বেও তিলাওয়াত শুনতে শুনতে অনিচ্ছাকৃতভাবে ঘুমিয়ে পড়লে এবং জাগার পর সঙ্গে সঙ্গে তিলাওয়াত বন্ধ করে দিলে কোনো গুনাহ হবে না।

আর জানাবাত (গোসল ফরজ হওয়ার অবস্থা) অবস্থায় কুরআন মাজীদের তিলাওয়াত শোনা জায়েজ। চাই তা সরাসরি কারও কাছ থেকে শোনা হোক কিংবা মোবাইল, কম্পিউটার, রেডিও বা অন্য কোনো মাধ্যমে।

হজরত আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন—

كان رسول الله صلى الله عليه وسلم يتكئ في حجري وأنا حائض فيقرأ القرآن

“আমার হায়েয চলাকালীন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আমার কোলে হেলান দিয়ে বসতেন এবং কুরআন তিলাওয়াত করতেন।”

(সহিহ মুসলিম, হাদীস নং : ৩০১)

তবে জানাবাত অবস্থায় নিজে কুরআন মাজীদের তিলাওয়াত করা জায়েজ নয়। হজরত আলী রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন—

كَانَ رَسُولُ اللَّهِ يَقْضِي حَاجَتَهُ ثُمَّ يَخْرُجُ فَيَقْرَأُ الْقُرْآنَ وَيَأْكُلُ مَعَنَا اللَّحْمَ، وَلَا يَحْجِزُهُ ـ أَوْ يَحْجُبُهُ ـ مِنَ الْقُرْآنِ شَيْءٌ لَيْسَ الْجَنَابَةَ

“রাসূলুল্লাহ ﷺ প্রয়োজন সারার পর বের হয়ে কুরআন তিলাওয়াত করতেন এবং আমাদের সঙ্গে গোশত খেতেন। জানাবাত ছাড়া অন্য কোনো কিছুই তাঁকে কুরআন তিলাওয়াত থেকে বিরত রাখত না

(সুনানে নাসাঈ, হাদীস নং : ২৬৬)

ফাতাওয়ায়ে আলমগীরিতে রয়েছে—

لا تقرأ الحائض والنفساء والجنب شيئا من القرآن

“হায়েয, নিফাস ও জানাবাত অবস্থায় কোনো ব্যক্তি কুরআন মাজীদের কিছুই তিলাওয়াত করবে না।”

(ফাতাওয়ায়ে আলমগীরি, ১/৩৮)

সারকথা: তিলাওয়াত শুনতে শুনতে অনিচ্ছাকৃতভাবে ঘুমিয়ে পড়লে এবং জাগার পর তা বন্ধ করে দিলে কোনো গুনাহ হবে না। আর জানাবাত অবস্থায় কুরআন মাজীদের তিলাওয়াত শোনা জায়েজ; তবে নিজে তিলাওয়াত করা গোসল না করা পর্যন্ত জায়েজ নয়।

দ্রষ্টব্য:

১. সহিহ মুসলিম, হাদীস নং : ৩০১।
২. সুনানে নাসাঈ, হাদীস নং : ২৬৬।
৩. ফাতাওয়ায়ে আলমগীরি, ১/৩৮।
৪. মুসান্নাফ ইবনে আবি শাইবা, ১/৯৭।
৫. রদ্দুল মুহতার, ১/১৭২।

والله أعلم بالصواب

উত্তরদাতা
মুফতী আবদুল্লাহ
উপদেষ্টা পরিষদ, কুরআন ও তাফসির, ফিকহ ও ফতোয়া
কুরআনুল কারীম ও তাফসীর
পরিসংখ্যান
১২৮
প্রশ্ন নম্বর
৪৪
দেখেছেন
১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
প্রকাশিত
? প্রশ্ন করুন