প্রশ্ন নং ১৫৩:
কাঁকড়া খাওয়া কি জায়েজ? মাছ চাষের ঘেরে কিংবা নদী-নালায় মাছের সাথে যে কাঁকড়া পাওয়া যায়, তা খাওয়া, ক্রয়-বিক্রয় করা এবং এর ব্যবসা পরিচালনা করার শরয়ী বিধান কী?
বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম
হানাফী মাযহাব মতে কাঁকড়া খাওয়া, কেনাবেচা করা এবং এর ব্যবসা করা জায়েজ নেই।
এর মূল কারণ হলো, জলজ প্রাণীর মধ্য থেকে একমাত্র ‘মাছ’ই পবিত্র ও হালাল। মাছ ব্যতীত জলজ অন্যান্য প্রাণী খাবাইস তথা নিকৃষ্ট বস্তুর অন্তর্ভুক্ত হওয়ায় সেগুলো খাওয়া বৈধ নয়। আর যা খাওয়া বা শরয়ী ব্যবহারে লাগানো সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ, হানাফী মাযহাব অনুসারে তা ক্রয়-বিক্রয় ও ব্যবসা করাও বৈধ নয়।
দলিল:
১. আল্লাহ তায়ালা বলেছেন,
وَيُحَرِّمُ عَلَيْهِمُ الْخَبَائِثَ
‘তিনি তাদের জন্য নিকৃষ্ট বস্তুসমূহ (খাবায়েস) হারাম করেন।’ (সূরা আল আ’রাফ: ১৫৭)
‘খাবায়েস’ এর সংজ্ঞায় বলা হয়েছে:
كُلُّ مَا يَسْتَخْبِثُهُ الطَّبْعُ
“সুস্থ মানবস্বভাব যা কিছুকে স্বাভাবিকভাবে ঘৃণা করে বা নোংরা মনে করে।” (তাফসীরে কাবীর, আদওয়াউল বায়ান)
মুফতি তাকি উসমানি হাফিযাহুল্লাহ লিখেছেন, মাছ ব্যতীত জলজ কীট-পতঙ্গ ও অন্যান্য প্রাণী স্বভাবগতভাবেই মানুষ অপছন্দ ও ঘৃণা করে। তাই এগুলো নিষিদ্ধ খাবারের অন্তর্ভুক্ত। (তাকমিলাতু ফাতহিল মুলহিম ৩/৫১১)
২. রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জলজ প্রাণীর মধ্য থেকে কেবল মাছকেই বিশেষভাবে অনুমতি দিয়েছেন। হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন,
أُحِلَّتْ لَنَا مَيْتَتَانِ وَدَمَانِ، فَأَمَّا الْمَيْتَتَانِ: فَالْحُوتُ وَالْجَرَادُ، وَأَمَّا الدَّمَانِ: فَالْكَبِدُ وَالطِّحَالُ
“আমাদের জন্য দুই প্রকারের মৃত জীব ও দুই প্রকারের রক্ত হালাল করা হয়েছে। মৃত জীব দুটি হলো: মাছ ও পঙ্গপাল। আর রক্ত দুটি হলো: কলিজা ও প্লীহা।” (ইবনে মাজাহ: ৩৩১৫; মুসনাদে আহমাদ: ৫৬৯০; দারাকুতনী: ৪৬৮৭; সনদ সহীহ)
তাছাড়া জলজ সব প্রাণী নির্বিচারে হালাল নয়। তার প্রমাণ হলো রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ব্যাঙ মারতে নিষেধ করেছিলেন,
أَنَّ طَبِيبًا سَأَلَ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَنْ ضِفْدَعٍ يَجْعَلُهَا فِي دَوَاءٍ، فَنَهَاهُ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَنْ قَتْلِهَا
“জনৈক চিকিৎসক নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে ওষুধ তৈরির উদ্দেশ্যে ব্যাঙ ব্যবহার সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলে তিনি ব্যাঙ হত্যা করতে নিষেধ করেন।” (সুনানে আবু দাউদ: ৩৮৭১)
সুতরাং যদি সব জলজ প্রাণীই ভক্ষণযোগ্য হতো, তাহলে চিকিৎসার প্রয়োজনে তা হত্যা করতে নিষেধ করা হতো না।
৩. ফিকহে হানাফীর সুস্পষ্ট ভাষ্য:
وَلَا يَأْكُلُ مِنْ حَيَوَانِ الْمَاءِ إِلَّا السَّمَكَ… “
এবং জলজ প্রাণীর মধ্য থেকে মাছ ছাড়া অন্য কোনো প্রাণী খাওয়া যাবে না।” (হেদায়া, ৪/৪৪২; তিবইয়ানুল হাকায়েক ৬/৪৬৯)
وَلَا يَحِلُّ حَيَوَانٌ مَائِيٌّ إِلَّا السَّمَكُ
“মাছ ব্যতীত কোনো জলজ প্রাণীই হালাল নয়।” (রদ্দুল মুহতার আলাদ দুররিল মুখতার ৯/৪৪১)
وَلَا يُؤْكَلُ مَا فِي الْبَحْرِ سِوَى السَّمَكِ وَطَيْرِ الْمَاءِ عِنْدَنَا.
“আমাদের (হানাফীদের) নিকট জলজ প্রাণীর মধ্যে মাছ ও পানকৌড়ি বা জলজ পাখি ছাড়া অন্য কিছু খাওয়া জায়েজ নেই।” (ফাতাওয়া কাযীখান আলা হামিশিল হিন্দিয়া ৩/৩৫৭; ফাতাওয়া কাসিমিয়া ২৪/১২২)
وَلَا يَجُوزُ بَيْعُ مَا يَكُونُ فِي الْبَحْرِ كَالضِّفْدَعِ وَلَا سَرَطَانٍ.
“এবং পানিতে বসবাসকারী প্রাণী, যেমন ব্যাঙ ও কাঁকড়া বিক্রি করা বা কেনাবেচা করা জায়েজ নয়।” (ফাতাওয়া হিন্দিয়া ৩/১১৪; শামী ৫/৬৮)
ওয়াল্লাহু আ’লাম