প্রশ্ন নং ১৪৭:
মেয়েরা মাসিক ও প্রসব-পরবর্তী স্রাব চলাকালীন দরুদ ও সকাল-সন্ধ্যার দোআ পড়তে পারবে কি?
بسم الله الرحمن الرحيم
ঋতুস্রাব ও প্রসব-পরবর্তী স্রাব চলাকালীন সময়ে নারীরা যিকির-আযকার, তাসবীহ-তাহলীল, দোআ-দরুদ, ইস্তিগফার ইত্যাদি পড়তে পারবেন। এতে কোনো নিষেধাজ্ঞা নেই।
মা‘মার রাহিমাহুল্লাহ থেকে বর্ণিত—
سَأَلْتُ الزُّهْرِيَّ، عَنِ الْحَائِضِ وَالْجُنُبِ أَيَذْكُرَانِ اللهَ؟ قَالَ: نَعَمْ، قُلْتُ: أَفَيَقْرَآنِ الْقُرْآنَ؟ قَالَ: لَا.
অর্থ: আমি যুহরী রাহ.-কে জিজ্ঞাসা করলাম, ঋতুমতী নারী ও গোসল ফরয হয়েছে এমন ব্যক্তি কি আল্লাহর যিকির করতে পারবে? তিনি বললেন, হ্যাঁ। আমি জিজ্ঞাসা করলাম, তারা কি কুরআন পড়তে পারবে? তিনি বললেন, না। (মুসান্নাফে আবদুর রাযযাক, হাদীস: ১৩০২)
ইবরাহীম নাখায়ী রাহ. বলেন—
الْحَائِضُ وَالْجُنُبُ يَذْكُرَانِ اللهَ وَيُسَمِّيَانِ
অর্থ: ঋতুমতী নারী ও গোসল ফরয হয়েছে এমন ব্যক্তি আল্লাহর যিকির করতে পারবে এবং বিসমিল্লাহ বলতে পারবে। (মুসান্নাফে আবদুর রাযযাক, হাদীস: ১৩০৫)
সুতরাং, হায়েয বা নিফাস চলাকালীন নারী দরুদ শরীফ, সকাল-সন্ধ্যার মাসনূন দোআ, ইস্তিগফার, তাসবীহ-তাহলীল ও অন্যান্য যিকির পড়তে পারবেন। তবে কুরআন কারীম তিলাওয়াত করা যাবে না। দুআর আয়াত হলে তা তিলাওয়াতের নিয়ত ছাড়া দুআ বা যিকিরের নিয়তে পড়া যাবে।
দ্রষ্টব্য: ফাতহুল কাদীর, ১/১৪৯; ফাতাওয়াল হিন্দিয়া, ১/৩৮; আল-জাওহারাতুন নাইয়িরা, ১/৩৯; হাশিয়াতুত তাহতাবী আলাল মারাকী, পৃ. ৭৭, ১৪২; রদ্দুল মুহতার, ১/২৯৩, ৪২৩; মুসান্নাফে আবদুর রাযযাক, বর্ণনা: ১৩০২, ১৩০৪, ১৩০৫।
واللهُ أَعْلَمُ بِالصَّوَابِ