প্রশ্ন নং ১৫৪:
ফজরের নামাজের ওযু করার জন্য মুখ ও হাতে পানি দেওয়ার সাথে সাথে ঠান্ডার কারনে নাক বন্ধ হয়ে যায়, তার একটু পর নাক থেকে পানি ঝরতে থাকে আর অনেক হাঁচি আসে( আসর, মাগরিবের সময় ও হয় তবে কম, এবংআমার তীব্র ঠান্ডার সমস্যা আছে)। গত বছর অযুর জন্য গরম পানি ব্যাবহার করেও তেমন লাভ হয়নি।
এই অবস্থায় আমি হাতের তালুতে পানি নিয়ে সেই পানি ফেলে দেওয়ার পর ভেজা হাতে যদি মখমন্ডল এবং দুই হাত ভালো মত ডলে নিই, এবং ৩ বার এভাবে করার পরেই হাত গামছা দিয়ে মুছে ফেলি। তাহলে কি অযু হবে? এছাড়া অন্য কি করা যায়?
বিসমিল্লাহির রহমানির রহীম
অজুর ফরজ হলো সম্পূর্ণ মুখমণ্ডল ধোয়া, কনুইসহ উভয় হাত ধোয়া, মাথা মাসাহ করা এবং টাখনুসহ উভয় পা ধোয়া। আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন—
إِذَا قُمْتُمْ إِلَى الصَّلَاةِ فَاغْسِلُوا وُجُوهَكُمْ وَأَيْدِيَكُمْ إِلَى الْمَرَافِقِ وَامْسَحُوا بِرُءُوسِكُمْ وَأَرْجُلَكُمْ إِلَى الْكَعْبَيْنِ
“যখন তোমরা নামাজের জন্য প্রস্তুত হও, তখন তোমাদের মুখমণ্ডল ও কনুই পর্যন্ত দুই হাত ধৌত করো, মাথা মাসাহ করো এবং টাখনু পর্যন্ত দুই পা ধৌত করো।” (সূরা আল-মায়িদা: ৬)
ধৌত করা ফরজ এমন কোনো অংশ শুকনো থেকে গেলে অজু সহিহ হয় না। হযরত উমর ইবনুল খাত্তাব রা. থেকে বর্ণিত, এক ব্যক্তি অজু করার পর তাঁর পায়ে নখ পরিমাণ স্থান শুকনো রয়ে গেল। রাসুলুল্লাহ ﷺ তা দেখে বললেন,
ارْجِعْ فَأَحْسِنْ وُضُوءَكَ
“ফিরে যাও এবং ভালোভাবে অজু করো।”
(সহিহ মুসলিম, হাদিস নং ২৪৩)
শরিয়তের পরিভাষায় ধোয়া বলতে ধৌত করার স্থানে পানি প্রবাহিত করাকে বোঝায়। প্রখ্যাত ফকিহ বুরহানুদ্দিন মারগীনানী রহ. বলেন,
وَالْغَسْلُ هُوَ الْإِسَالَةُ وَالْمَسْحُ هُوَ الْإِصَابَةُ
“ধোয়া হলো পানি প্রবাহিত করা, আর মাসাহ হলো ভেজা হাতের স্পর্শ ঘটানো।” (আল-হিদায়া, ১/১৫)
সুতরাং, মুখমণ্ডল ও হাতের ওপর পানি প্রবাহিত না করে শুধু ভেজা হাত দিয়ে ঘষলে অজু শুদ্ধ হবে না।
অজুর অঙ্গগুলো তিনবার করে ধোয়া সুন্নত। তবে প্রতিটি ফরজ অঙ্গে একবার করে যথাযথভাবে পানি পৌঁছালেও অজু সহিহ হয়ে যায়। হযরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রা. বলেন—
تَوَضَّأَ النَّبِيُّ ﷺ مَرَّةً مَرَّةً
“নবী ﷺ অজুর অঙ্গগুলো একবার একবার করে ধুয়ে অজু করেছেন।”
(সহিহ বুখারি, হাদিস নং ১৫৭)
সুতরাং, এমন পরিস্থিতিতে আপনি অল্প পানি ব্যবহার করে অজুর প্রতিটি ফরজ অঙ্গ একবার করে ভালোভাবে ধুয়ে নিতে পারেন। এতে প্রতিটি ফরজ অঙ্গে পানি পৌঁছালেই অজু আদায় হয়ে যাবে।
তবে পানি ব্যবহারের কারণে গুরুতর ক্ষতির আশঙ্কা প্রবল হলে শরিয়তের বিধান অনুযায়ী তায়াম্মুম করা যাবে। আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন—
وَإِنْ كُنْتُمْ مَرْضَىٰ أَوْ عَلَىٰ سَفَرٍ … فَلَمْ تَجِدُوا مَاءً فَتَيَمَّمُوا صَعِيدًا طَيِّبًا
“আর যদি তোমরা অসুস্থ হও বা সফরে থাকো … অতঃপর পানি না পাও, তবে পবিত্র মাটি দ্বারা তায়াম্মুম করো।”
(সূরা আল-মায়িদা: ৬)
প্রখ্যাত ফকিহ ইবনে আবেদীন রহ. বলেন,
أَوْ لِمَرَضٍ يَشْتَدُّ أَوْ يَمْتَدُّ بِغَلَبَةِ ظَنٍّ أَوْ قَوْلِ حَاذِقٍ مُسْلِمٍ (أَيْ عَنْ أَمَارَةٍ أَوْ تَجْرِبَةٍ)
“(তায়াম্মুম বৈধ হবে) এমন অসুস্থতার ক্ষেত্রে, যা বৃদ্ধি পাবে বা দীর্ঘস্থায়ী হবে বলে প্রবল ধারণা হয়; অথবা কোনো অভিজ্ঞ মুসলিম চিকিৎসক লক্ষণ বা অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে এমন আশঙ্কা ব্যক্ত করেন।” (আদ-দুররুল মুখতার ও রদ্দুল মুহতার, ১/২৩৩)
অতএব, প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে শুধু সাময়িক হাঁচি বা নাক দিয়ে পানি পড়ার কারণে অজুর ফরজ অঙ্গগুলো ধোয়া থেকে বিরত থাকা বৈধ হবে না। তবে নির্ভরযোগ্য চিকিৎসকের পরামর্শে পানি ব্যবহারে গুরুতর ক্ষতির প্রবল আশঙ্কা থাকলে এবং হালকা গরম পানি ব্যবহার করেও সেই ক্ষতি এড়ানো সম্ভব না হলে তায়াম্মুম করা যাবে।
والله تعالى أعلم بالصواب